Loading...

Activities

  • gallery
  • gallery
  • gallery

হিমছড়ি

হিমছড়ি জলপ্রপাত: সবুজে ঘেরা শান্তির ঠিকানা

কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি জলপ্রপাত, একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান যা পাহাড়, ঝর্ণা এবং সমুদ্রের মিশ্রণে গঠিত এক নির্জন স্বর্গ। এই এলাকাটি মূলত তার প্রাকৃতিক ঝর্ণা, পাহাড়ি রাস্তা এবং সবুজ বনভূমির জন্য বিখ্যাত। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ কাটাতে চান, তাদের জন্য হিমছড়ি আদর্শ স্থান।

হিমছড়ি পৌঁছানোর পথটিও ভ্রমণের একটি বড় অংশ। সমুদ্রের পাশ ঘেঁষে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাত্রা করলেই দেখা মেলে হিমছড়ির সবুজের রাজ্য। পাহাড়ি পথে চলতে চলতে হঠাৎ করেই কানে ভেসে আসে ঝর্ণার গর্জন। এটি পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা একটি ছোট অথচ প্রাণবন্ত জলপ্রপাত। বর্ষাকালে এই ঝর্ণা সবচেয়ে বেশি জোশপূর্ণ থাকে, তবে শীতকালেও পানি থাকে এবং দৃশ্যত অত্যন্ত মনোরম।

হিমছড়িতে ট্রেকিং করাও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠলে মিলবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের এক ভিন্ন এবং বিস্তৃত দৃশ্য। পাখির কিচিরমিচির শব্দ, গাছের পাতার মর্মর এবং নিচে সমুদ্রের ঢেউ – সব মিলিয়ে যেন এক প্রাকৃতিক সিম্ফোনি। আপনি চাইলে উপরের পাথরের উপর বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন, যা জীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

স্থানীয়ভাবে বানানো কাঠের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় হাতের কাজের পণ্য এবং ঝিনুকের অলংকার। চাইলে আপনি ছবি তুলতে পারেন ঝর্ণার সামনে, কিংবা পাহাড়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের ছায়ায়।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাবধানে চলা উচিত, বিশেষ করে বর্ষার সময় পাথর ভিজে থাকে এবং পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যদি পরিবার নিয়ে যান, শিশুদের উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

হিমছড়িতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজার শহর থেকে অটোরিকশা বা ট্যাক্সিতে যাওয়া যায়। যারা মোটরসাইকেল চালাতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার রোমাঞ্চকর রাইড হবে।

হিমছড়ি শুধু একটি জলপ্রপাত নয়, এটি প্রকৃতির গভীর আলিঙ্গনের নাম। যেখানে গিয়ে আপনি নতুন করে জীবনকে অনুভব করতে পারবেন, শান্তি খুঁজে পাবেন এবং প্রকৃতির একান্ত ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন।   

Write a review